বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত: ০৫:৪৯ এএম, মার্চ ২০, ২০২১

বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশে চলমান টিকাদান কর্যক্রম এগিয়ে নিতে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদ। গতকাল বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এ অর্থায়ন করবে। এ ঋণের আওতায় দেশের ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য অগ্রাধিকার পাবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৩১ শতাংশ মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংকের ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেয়া হবে অতিরিক্ত এ অর্থায়ন। এ অর্থায়ন নিরাপদ ও কার্যকর টিকা কিনতে, দেশের টিকা সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে ও বিতরণে সরকারকে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে কভিড-১৯ প্রতিরোধে বাংলাদেশ দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে মানুষের দ্রুত ও সাম্যের সঙ্গে টিকা পাওয়া জরুরি। বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করবে। প্রকল্পটি কভিড-১৯ সংক্রমণ চিহ্নিত করা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া একটি সফল টিকাদান কর্মসূচির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং টিকা পরীক্ষায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াবে। এ অর্থায়ন দেশের জনগণের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটির (কোভ্যাক্স) মাধ্যমে প্রাপ্ত টিকার ব্যয় বহন করবে। বাকি ১১ শতাংশ মানুষের জন্য এ অর্থায়ন, উৎপাদকের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় অথবা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া টিকার ব্যয়ভার ও টিকা প্রদানের ব্যয় বহন করবে। অর্থাৎ এ ঋণের মাধ্যমে দেশের ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। এর বাইরে সরকার নিজস্ব সম্পদের মাধ্যমে দেশের ৯ শতাংশ মানুষের জন্য টিকার ব্যয়ভার বহন করবে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে প্রস্তুতকৃত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’র তিন কোটি ডোজ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এ তিন কোটি ডোজ প্রয়োগে ৯ শতাংশ নাগরিক টিকার আওতায় আসবে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশন অফিসার ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় সুদীর্ঘ ও সফল অভিজ্ঞতার আলোকে এ অর্থায়ন সেই সব মানুষের কভিড-১৯ টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যাদের টিকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এছাড়া প্রকল্পটি টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন ও জেলা পর্যায়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র সম্প্রসারণে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। অতিরিক্ত এ অর্থায়নের ফলে প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৬০০ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এ প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে ৩০ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড (কিস্তি অব্যাহতির সময়কাল) রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান আইডিএ কর্মসূচির সর্বাধিক অর্থায়ন রয়েছে, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সহায়তায় এগিয়ে আসা প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম এবং এ দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান এবং সুদবিহীন ও নমনীয় কনসেশনাল ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ধাপে যে তিনটি দেশকে সহায়তা দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
Link copied!