মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

ঢাকা উওর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ভুতের আছর

প্রকাশিত: ০৫:৩৩ এএম, এপ্রিল ২৬, ২০২১

ঢাকা উওর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ভুতের আছর

ঢাকা উওর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ভুতের আছর পরেছে। রাজধানীতে গত পাঁচ বছরে কী পরিমাণ গাছ লাগানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব নেই। উত্তর-দক্ষিণ সিটি-কর্পোরেশনের কোনো সংস্থাই এর খরচের হিসাবও দেখাতে পারেনি। রাজধানীতে বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন খাতে গেল চার অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বাজেটে ৯১ শতাংশ বরাদ্দ কমেছে। অন্যদিকে গত বছরের চেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাজেটে বনায়ন এবং মিডিয়ান, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের জন্য বরাদ্দ কমেছে ৯২ শতাংশ। আবার এই খাতে প্রতিবছর যতটুকু অর্থ বরাদ্দ থাকে তা কিভাবে ব্যয় হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমনকি রাজধানীতে গত পাঁচ বছরে কী পরিমাণ গাছ লাগানো হয়েছে, তারও সঠিক হিসাব দিতে পারেনি উত্তর-দক্ষিণ সিটি-কর্পোরেশনে দায়িত্বে থাকা কোনো সংস্থাই। খোজ নিয়ে জানা গেছে-২০১৬-১৭ অর্থবছরে বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ডিএনসিসির বাজেট ছিলো ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা পরের অর্থবছরে কমে ১৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই বাজেট আরো ৭৪ শতাংশ কমে। একইভাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সঙ্গে পরবর্তী চার অর্থবছরের তুলনা করে দেখা যায়, প্রতিবছরই বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ডিএনসিসির বরাদ্দ কমেছে এই অর্থবছরে এ বরাদ্দ কমে মাত্র এক কোটিতে এসে ঠেকেছে। তবে প্রতি অর্থবছরে বাজেট কমার পরও যে টাকাটা বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বরাদ্দ থাকে তা কোন খাতে কিভাবে খরচ হচ্ছে তার সঠিক তথ্য নেই ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে উত্তরে বনায়ন এবং ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে যেসব গাছ লাগানো হয়েছে তার বেশির ভাগই বেসরকারি খাতে কিংবা কোনো না কোনো প্রকল্পের আওতায়। বেসরকারি পর্যায়ে লাগানো গাছগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই দেখভাল করে বলে জানান ডিএনসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ গাছ লাগানো হয় প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে। ফলে এখানে আমাদের ব্যয় থাকে না। এ ছাড়া বর্তমানে সরকারি কিছু মেগা প্রকল্পের কারণে আমাদের লাগানো বেশ কিছু গাছ কাটাও পড়েছে। তাই আপাতত সেখানে আমরা গাছ লাগাচ্ছি না। তাহলে বাজেটে বনায়নের জন্য বরাদ্দের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে—এমন প্রশ্নে ডিএনসিসির পরিবেশ,জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন,‘আসলে আমাদের প্রধান সড়কগুলোর বনায়ন বেসরকারি খাতে হয়। তবে অন্য ছোট জায়গাগুলোতে আমরা কিছু কাজ করি। যদিও সেই ছোট জায়গার কাজগুলো সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।’ এদিকে বনায়ন এবং মিডিয়ান, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দক্ষিণ ঢাকার বাজেট ছিলো ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৪ শতাংশ কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই বাজেট কমেছে ৭৯ শতাংশ। গেল অর্থবছরে এই বাজেট বাড়লেও সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে বাজেট কমেছে ৯২ শতাংশ। গত পাঁচ অর্থবছরে বনায়ন এবং মিডিয়ান, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের জন্য ডিএসসিসির মোট বাজেট ছিল ৬৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তবে সেই বরাদ্দের ব্যয়ের হিসাব নেই কর্মকর্তাদের কাছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল পাঁচ অর্থবছরে বনায়ন এবং মিডিয়ান, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে ডিএসসিসির নিজস্ব বরাদ্দের কোনো টাকাও খরচ হয়নি। এ ক্ষেত্রে যৎসামান্য যা কাজ হয়েছে তা-ও কোনো না কোনো প্রকল্পের আওতায়। ফলে এই খাতে করপোরেশনের বরাদ্দের নিজস্ব টাকা ব্যয় হয়নি। কিন্তু সেই টাকা কোথায় গেল তার কোনো সদুত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে। একেকজন দিচ্ছেন একেক রকম উত্তর। কেউ বলছেন, এই টাকা আন্ত বিভাগ সমন্বয়ে ব্যয় হয়। কেউ বলছেন টাকা পরবর্তী বাজেটে সংশোধিত হয়। আবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, এই টাকা আসলে প্রকল্পের মধ্যে চলে যায়। তবে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কখনোই বাজেটের নিজস্ব টাকা কোনো প্রকল্পের মধ্যে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই তথ্য ঠিক নয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খাইরুল বাকের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্পের আওতায় নগরে গাছ লাগানো হলেও সেসব গাছ বেশি দিন টেকে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরিকল্পিতভাবে এবং ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় না এমন গাছ লাগানোর কারণে সিটি করপোরেশন থেকে লাগানো অনেক গাছই বাঁচে না। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘গাছ লাগানোর পরিকল্পনাগুলোতে কখনোই সিটি করপোরেশন বিশেষজ্ঞদের রাখে না। ফলে বেশির ভাগ সময়ই তারা এমন গাছ লাগায় যা শহরের জন্য উপযুক্ত না। এই গাছগুলো বেশি দিন বাঁচেও না। এখানে আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত গাছ লাগাতে হবে। তবে খরচের ভুত পরিবেশ দুর না হলে এখাতের সৌন্দর্য দিন দিন জটিল হবে রাজধানীর পরিবেশ। সূত্র: কালেরকন্ঠ  
Link copied!