মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

ছোট হয়ে গেছে পাউরুটি

প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, মে ২৫, ২০২২

ছোট হয়ে গেছে পাউরুটি

স্বল্পখরচে সকালের নাশতা সারতে শ্রমজীবী মানুষের ভরসা কলা-পাউরুটিতে। অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামের সঙ্গে এগুলোরও দাম বেড়েছে। ফলে পকেটে টান পড়ছে রিকশাচালক থেকে শুরু করে খেটেখাওয়া মানুষের। দাম বেড়ে যাওয়ায় পাউরুটির আকার ছোট হয়ে গেছে, সঙ্গে দামও বাড়ানো হয়েছে। কলা তো আর ছোট করার উপায় নেই, তাই বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে এ পণ্যটি। ৭ টাকার কলা এখন ১০ টাকা। সকালে কলা-রুটি দিয়ে নাশতা করেন রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে ৭ টাকায় একটি কলা ও একটি বনরুটি কিনে খেতাম। এখন দুটাই ১০ টাকা। তবে আগের চেয়ে রুটির সাইজ ছোট। ওরা (দোকানদার) বলে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। এজন্য কলা-রুটির দামও বেড়েছে। সকালে চা, সিগারেট, কলা-রুটি মিলিয়ে আগে ৩০-৩৫ টাকা লাগত। এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লাগে। যত দামই হোক, খেতে তো হবে। না খেয়ে রিকশা চালানো যায় না।’ কারওয়ান বাজার এলাকায় চা, কলা-রুটি বিক্রি করেন ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, এখন পাউরুটি ৮ টাকায় কিনে বিক্রি করি ১০ টাকা। আগে ৬ টাকা কিনে ৮ টাকায় বিক্রি করতাম। কিছুদিন ধরে ১ থেকে ২ টাকা বেশি দামে কিনছি। তবে আগে এই রুটিগুলোর সাইজ (আকার) যেমন ছিল, এখন আর তেমন নেই। ছোট করে ফেলেছে। রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে ১৩-১৪ বছর ধরে ডিম ও কলা বিক্রি করেন তুহিন সরদার। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সময়ের আলোকে তিনি বলেন, সরবি কলা ৬০০ টাকা পণ (৮০টিতে এক পণ) কিনেছেন। সে হিসাবে এক হালি কলার দাম পড়েছে ৩০ টাকা, একটির দাম সাড়ে ৭ টাকা। তিনি খুচরা বিক্রি করছেন ১০ টাকা পিস। রমজানের চেয়ে এখন কলার চাহিদা কম থাকলেও দাম কমেনি দাবি করে তুহিন বলেন, ‘মালের দাম বেশি। শুধু কলা নয়, সব জিনিসের দাম বেশি। এখন কলা কম আসছে। যারা বেপারি তাদের জিজ্ঞেস করলাম। তারা বললেন, কলার আবাদ কম হয়েছে এবার। বন্যা আর ঝড়ে কলাগাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছুদিন পর সাগর কলা বাজারে এলে দাম একটু দাম কম হতে পারে।’ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ও ভোক্তা পর্যায়ে একটি পণ্য পৌঁছানোর মধ্যে যারা মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা সরকার করছে না। ফলে বেশি দামে ভোক্তাকে পণ্য কিনতে হচ্ছে। সরকার সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করলে এমন অবস্থা হতো না। সব কিছুরই দাম বেশি। এ সুযোগে কলা-রুটির ব্যবসায়ীরাও সুযোগ নিচ্ছেন। সূত্র: সময়ের আলো
Link copied!