মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মোশতাকের ভাতিজা হয়ে যায় না

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, জুন ৮, ২০২০

কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মোশতাকের ভাতিজা হয়ে যায় না

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলায় সহযোগিতা করতে নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় এসেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার। নিউ ইয়র্ক থেকে গতকাল রবিবার বিকেলে আরো ১২৮ বাংলাদেশি যাত্রীর সঙ্গে বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ড. ফেরদৌস খন্দকারকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তিনি সঙ্গে করে বেশ কিছু মাস্ক ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে এসেছেন। সেগুলোর পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিমানবন্দরে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এগুলো তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। করোনা মহামারির সময় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি সম্প্রদায়কে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে আলোচনায় আসেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু গতকাল একাধিক সংবাদমাধ্যমে তাঁকে বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের আত্মীয় হিসেবে অভিহিত করে তাঁর বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে ফেসবুকে তিনি খন্দকার মোশতাক ও কর্নেল রশিদকে খুনি হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। কুমিল্লায় কারো বাড়ি হলেই সে খুনি মোশতাকের ভাতিজা হয়ে যায় না। অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে দাবি করেছেন। ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার লিখেছেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ। দেশে এসেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে। তার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিতেও আমি পিছপা হইনি।’ তিনি লিখেছেন, ‘যখন ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি দেশে এসেছি, তখন একদল লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, আমি নাকি খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই। অথচ পুরো বিষয়টি কাল্পনিক।’ ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার লিখেছেন, ‘আমার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। কুমিল্লায় বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বাড়ি। কুমিল্লা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা। কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মোশতাকের ভাতিজা কিংবা কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হয়ে যায় না।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, এই দুই খুনির সঙ্গে আমার পারিবারিক কিংবা আদর্শিক কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমি, তাঁদের চরম ঘৃণা করি। ফলে যাঁরা এই খারাপ কথাগুলো ছড়াচ্ছেন, বলছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার; ভালো কাজে বাধা দেওয়া।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘এটা অন্যায়। আমি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রমাণের জন্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি। যদি মনে করেন আমার সেবা আপনাদের দরকার, তাহলে পাশে থাকুন।’
Link copied!